মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ঐতিহ্যবাহী চুনতি ইউনিয়নের ইতিহাস

 

চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি বিখ্যাত ইউনিয়নের মধ্যে চুনতি অন্যতম । বিশ্বের বুকে চট্টগ্রামের যেমনি স্বীয় পরিচিতি রয়েছে তেমনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে চুনতি  ইউনিয়নেরও একটি আলাদা পরিচিতি রয়েছে । চট্টগ্রাম অঞ্চল সাহাবা, তাবেয়ীন,তবে-তাবেয়ীনের পদচারণা লাভ করে গর্ব অনুভব করে ।সাথে সাথে পাহাড়-সমুদ্রবেষ্টিত নয়নাভিরাম চট্টগ্রাম  মহান আউলিয়া –দরবেশগণের অঞ্চল বলেও খ্যাতি লাভ করে । অনুরুপভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এ চুনতি ইউনিয়নকে মহান আউলিয়াগণের ইউনিয়ন বললে মনে হয় বাড়িয়ে বলা হবে না । সাধারণ শিক্ষিতগণের পাশাপাশি এ ইউনিয়ন তার মাটির বুকে ধারণ করে রেখেছে বেশ কয়েকজন মহান আল্লাহর ওলিকে । “৭ম শতাব্দীতে হযরত উমর(রা.)এর খেলাফতকাল থেকে শুরু করে যে সকল সাহাবা,তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন ও আউলিয়ায়ে কেরামের দল বা উপদল অমুসলিম দেশ চট্টগ্রামে আগমন করেছিলেন তাদের দ্বীন প্রচারের কেন্দ্রটি নগরীতে সীমাবদ্ধ না থেকে ইউনিয়ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন । এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক গবেষকদের উদঘাটিত তথ্যাবলীতে অনেক আউলিয়ার মাজারের নামের সন্ধান পাওয়া যায়।জনশ্রুতি ও প্রাপ্ত দলিলাদির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যে, উল্লিখিত আউলিয়া ও মুবাল্লেগিনের একটি দল চট্টগ্রম জেলার সর্বদক্ষিণাংশে আরাকান রোড়ের পূর্ব পার্শ্বে লাল মাটির ছোট ছোট অনুচ্চ টিলা-পাহাড়ে বা এর পাদদেশে বসতি স্থাপন করেছিলেন । তারা আধ্যাত্মিকভাবে নির্দেশিত হয়ে পূন্যভূমি চুনতির টিলা পাহাড়ের রুপ,এর মাটির লালিত্য ও গন্ধ শুঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ স্থানকে তাঁদের ইবাদত,জিয়ারত, মুরাকাবা, মুশাহাদা,দ্বীন প্রচার ও কায়েমের কেন্দ্ররুপে নির্বাচিত করেছিলেন । চট্টগ্রাম অঞ্চলে চুনতি ইউনিয়ন প্রসিদ্ধ হওয়ার পেছনে যে কারণগুলো রয়েছে তার মধ্যে শিক্ষার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক অপার অপরুপতাই প্রধান । কোন ইউনিয়ন, গ্রাম মহল্লা বা এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে কতগুলো পুর্বশর্ত কাজ করে। যেমন অধিবাসীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা,সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা গ্রহণের অদম্য ও ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য চুনতীর পূর্বপুরুষগণ সাথে নিয়ে এসে ছিলেন । যে কারণে জেলা শহর থেকে দূরের একটি ইউনিয়ন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল । মুসলিম শাসন আমলে চুনতির অধিবাসীরা শাসক শ্রেণীর শিক্ষা (আরবী-ফার্সি) গ্রহণ করে। উল্লেখ্য,১৮৭৪ সাল পর্যন্ত এদেশে সরকারি ভাষা হিসেবে ফার্সি ভাষা চালু ছিল । এই সময় বহু আলেম সরকারের উচ্চ পদে চাকুরীরত ছিলেন । অনেক আলেম হিসেবে বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন । ১৮৭৪ সালে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকে চুনতি বেসরকারি পর্যায়ে মাদরাসা ছিল । বর্তমানে চুনতি হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসা চুনতি মহিলা কলেজ, চুনতি ফাতেমা বতুল মহিলা মাদরাসা,চুনতি  উচ্চ বিদ্যালয় ও চুনতি হাকিমিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ইত্যাদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমাহার অত্র গ্রামকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করে তুলেছে।                                         


Share with :

Facebook Twitter